ন্যাশনাল ডেস্ক:
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধার হার নির্ধারণ করে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা সর্বোচ্চ মূল বেতনের ৬০ শতাংশ এবং চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ মাসে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গ্রেড ও কর্মস্থলের ধরন বিবেচনায় বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে। তবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়ম ও হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন সরকারি কর্মচারীরা।
চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা
নতুন বেতন কাঠামোয় চিকিৎসা ভাতার পরিমাণও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা মাসে ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। ৫০ বছর এক দিন বয়স থেকে অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হওয়া পর্যন্ত এ ভাতার পরিমাণ হবে ৪ হাজার টাকা।
অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়বে। ৫০ বছর পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছর এক দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা, ৬০ বছর এক দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে মাসে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে।
গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতা
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত কর্মচারীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। অন্যান্য নির্ধারিত সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় এ হার হবে ৫০ শতাংশ। দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ।
গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ঢাকা শহরে বাড়িভাড়া ভাতা হবে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। অন্যান্য নির্ধারিত শহরে ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৩৫ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হবে।
গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য ঢাকা শহর, অন্যান্য নির্ধারিত শহর ও অন্যান্য এলাকার বাড়িভাড়া ভাতার হার যথাক্রমে ৪৫, ৩৫ ও ৩০ শতাংশ।
গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ এবং এর ওপরের পর্যায়ের কর্মচারীরা ঢাকা শহরে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, অন্যান্য নির্ধারিত শহরে ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ২৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।
তবে সরকারি বাসভবনে বসবাসরত কর্মচারীরা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। স্বামী-স্ত্রী দুজনই সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে এবং তাঁরা একই সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে, যার নামে বাসাটি বরাদ্দ থাকবে তাঁর বেতন থেকে নির্ধারিত হারে বাড়িভাড়া কেটে নেওয়া হবে। তিনি বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। অন্যজন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
বাংলা নববর্ষ ভাতা ১৫ শতাংশ
সরকারি কর্মচারীরা আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। মাসিক নিট পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নিট মূল পেনশনের ১৫ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বহাল থাকছে উৎসব ও বিনোদন ভাতা
বার্ষিক উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা আগের মতো প্রচলিত বিধি অনুযায়ী দেওয়া হবে। তবে কোনো কর্মচারী একবার এসব ভাতা উত্তোলন করার পর পরবর্তী সময়ে বেতন পুনর্নির্ধারণের কারণে ওই ভাতার কোনো বকেয়া দাবি করতে পারবেন না।
অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য বছরে দুটি উৎসব ভাতাও আগের মতো বহাল থাকবে। এ ভাতার পরিমাণ হবে তাঁদের নিট পেনশনের সমপরিমাণ। ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারী ব্যক্তিরা পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ নিট পেনশন পেতেন, সেই পরিমাণ অর্থ বছরে দুই দফায় উৎসব ভাতা হিসেবে পাবেন।
সন্তানপ্রতি শিক্ষা ভাতা ৫০০ টাকা
সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে শিক্ষা সহায়ক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য একজন কর্মচারী মাসে মোট ১ হাজার টাকা পাবেন।
স্বামী ও স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরিতে থাকলে সন্তানের সংখ্যা একজনের ক্ষেত্রেই বিবেচনা করা হবে। বয়সের সনদ জমা দেওয়ার শর্তে সন্তানের বয়স ২৩ বছর হওয়া পর্যন্ত এই শিক্ষা ভাতা পাওয়া যাবে।
টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কর্মচারী নিজ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লাঞ্চ ভাতা অথবা বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার পেলে তিনি টিফিন ভাতা পাবেন না।
এ ছাড়া চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
ভ্রমণ ভাতার ক্ষেত্রে আপাতত প্রচলিত নিয়মই কার্যকর থাকবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করে আলাদা আদেশ জারি করতে পারবে অর্থ বিভাগ।
গেজেটে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের ভাতার ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এ সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে নিয়োগ পেলে যে হারে বা পরিমাণে সংশ্লিষ্ট ভাতা পাওয়ার কথা ছিল, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই হারেই ভাতা পাবেন।

