স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনার তেরখাদা থানার গারদের ভেতরে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা জনাব আলী শেখের মুঠোফোনে কথা বলার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন গ্রেপ্তার ব্যক্তির হাতে মুঠোফোন থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর থানার নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে গারদের ভেতরের ছবি কে তুলেছেন এবং সেটি কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি এলাকা থেকে জনাব আলী শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁর বাড়ি ইখড়ি এলাকায়। তিনি মৃত ওলিয়ার রহমান শেখের ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাশকতা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জনাব আলী শেখকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। পরে ইখড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর থানার গারদের ভেতরে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলার ওই ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তাঁকে গারদের ভেতরে মুঠোফোন কানে নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন গ্রেপ্তার ব্যক্তির হাতে মুঠোফোন কীভাবে পৌঁছাল। গারদের ভেতরে মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ তিনি কীভাবে পেলেন এবং ওই সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের নজরদারি কী অবস্থায় ছিল—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
শুধু মুঠোফোন ব্যবহারের ঘটনাই নয়, গারদের ভেতরের ছবি ধারণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ছবিটি কখন তোলা হয়েছে, কে তুলেছেন এবং কীভাবে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়েও জানতে চাইছেন স্থানীয়রা।
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল আমি খুলনায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের মিটিংয়ে ছিলাম। সকালে একজন ফোন দিয়ে জানান, একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখছি।’
ছবিটি কে তুলেছেন, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়ে ওসি বলেন, ‘ছবিটি কে তুললো, এটাও দেখব। থানা একটি সিকিউরিটির জায়গা। বিষয়টি অবশ্যই দেখব।’
তবে গ্রেপ্তারের পর গারদের ভেতরে থাকা অবস্থায় জনাব আলী শেখের হাতে মুঠোফোন কীভাবে গেল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনটি কোথা থেকে এসেছে কিংবা কে তাঁকে সেটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন, সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, থানার মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছে মুঠোফোন পৌঁছানোর সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো। একই সঙ্গে গারদের ভেতরের ছবি বাইরে যাওয়ার ঘটনাটিও কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলা হলেও, এখন পর্যন্ত মুঠোফোন ব্যবহারের ঘটনায় কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ওসি জানিয়েছেন, বিষয়টি দেখার পাশাপাশি ছবিটি কে তুলেছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে জনাব আলী শেখের বিরুদ্ধে থাকা নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার অভিযোগের সত্যতা আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের পর থানার গারদের ভেতরে তাঁর মুঠোফোনে কথা বলার ছবি প্রকাশ্যে আসায় এখন পুলিশের হেফাজত ও থানার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুঠোফোনটি কীভাবে গারদের ভেতরে গেল, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং ছবিটি কীভাবে বাইরে এলো এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে কী পাওয়া যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

