রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির ● লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়িমার্চ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ● বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো, মুক্তিপণের জন্য হত্যা রাকিবকে
মুক্ত জানালা

সুন্দরবন রক্ষায় জীবন-জীবিকা উন্নয়নে টেকসই পর্যটনব্যবস্থা

আঁখি সিদ্দিকা

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বনসংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা উন্নয়নে টেকসই পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের একজন গবেষক ও উদ্যোক্তা। তাঁর মতে, সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বনসংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পর্যটন পরিচালনার জন্য পৃথক নীতিমালা ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নদী, বন্যপ্রাণী, স্থানীয় সংস্কৃতি, মানুষের বসতি, জীবিকা ও আঞ্চলিক অর্থনীতি। তাই সুন্দরবন সংরক্ষণের পরিকল্পনায় প্রকৃতির পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনকে কেবল বিনোদন বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড হিসেবে না দেখে পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পর্যটকের সংখ্যা নির্ধারণ, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় মানুষের জীবিকা

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এসব উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় পরিবার ছাড়াও নৌকার মাঝি, জেলে, কৃষক, ভ্যানচালক, গাইড, খাদ্য সরবরাহকারী, শ্রমিক, কারিগর ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা যুক্ত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনসংলগ্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রায় ৩০০ পরিবার যুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া পরোক্ষভাবে আরও কয়েক হাজার মানুষের জীবিকার সঙ্গে এ খাতের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এ পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

পরিকল্পিত পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য, জেলেদের মাছ, নারীদের তৈরি হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের সুফল আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিকল্প কর্মসংস্থান বন সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে

সুন্দরবনসংলগ্ন বহু পরিবারের জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বনের ওপর নির্ভরশীল। দারিদ্র্য, ঋণের চাপ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে কিছু মানুষ অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণ বা বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে বনের ওপর প্রত্যক্ষ নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন খাতের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের গাইড হিসেবে কাজ করার সুযোগ, নারীদের রান্না, হস্তশিল্প ও অন্যান্য সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং জেলেদের নৌযানভিত্তিক পরিবহনে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে স্থানীয় কৃষকেরা পর্যটনকেন্দ্রে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে আয় করতে পারেন।

তবে পর্যটনকে বন সংরক্ষণের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হলে স্থানীয় মানুষের ন্যায্য অংশগ্রহণ, আয় বণ্টনে স্বচ্ছতা এবং পরিবেশগত নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

বনসংলগ্ন এলাকা ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য পৃথক পরিকল্পনা

সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বনসংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনার চাহিদা এক নয়। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, প্রজননক্ষেত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে বনসংলগ্ন জনপদে পরিবেশের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় রেখে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণমূলক পর্যটন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ দুই এলাকার জন্য একই ধরনের বিধিনিষেধ প্রয়োগ না করে পৃথক বাস্তবতাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনুমোদিত নৌভিত্তিক পর্যটনের ওপরও কার্যকর পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। কতটি নৌযান চলাচল করবে, পর্যটকের সংখ্যা কত হবে, কোন পথে নৌযান চলবে, কোথায় নোঙর করা যাবে এবং বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।

নৌযানের শব্দ ও আলো নিয়ন্ত্রণ, তেল নিঃসরণ প্রতিরোধ এবং কম দূষণকারী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালায় পরিবেশগত মানদণ্ড নির্ধারণের প্রস্তাব

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট কার্যপদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতে কোন এলাকায় কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে, কোথায় নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকবে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অন্যান্য অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা, বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার, শব্দ ও আলোকদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ সুরক্ষার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি পর্যটকের ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, নৌযানের পরিবেশগত মানদণ্ড, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, নারী ও তরুণদের কর্মসংস্থান এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা তৈরির সময় স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন উদ্যোক্তা, পরিবেশবিদ, বন ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ, নৌযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মতামত নেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

বনসংলগ্ন জনপদে কমিউনিটি পর্যটনের সম্ভাবনা

খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন বানীশান্তা, কৈলাশগঞ্জ ও সুতারখালী ইউনিয়নে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে সমবায়ভিত্তিক কমিউনিটি পর্যটন গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব এলাকায় পরিবেশগত বিধিনিষেধ ও স্থানীয় মানুষের অধিকার বিবেচনায় রেখে হোমস্টে, কমিউনিটি রিসোর্ট, স্থানীয় খাবার, কৃষিপণ্য, মধু ও মোমজাত পণ্য, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে।

এ ছাড়া বনবিবির কাহিনি, লোকগান, স্থানীয় ঐতিহ্য, নদী ও জীববৈচিত্র্যভিত্তিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষিত স্থানীয় গাইডের মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা তৈরির সুযোগ রয়েছে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশগত অবস্থা, ভূমির শ্রেণি, বিদ্যমান আইন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।

সংস্কৃতি সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারে পর্যটন

সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদের মানুষের জীবনযাপন, লোকবিশ্বাস, নৌসংস্কৃতি, গান, গল্প ও বনবিবিকেন্দ্রিক ঐতিহ্য এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিকল্পিত পর্যটনের মাধ্যমে এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক দল, লোকশিল্পী ও কারুশিল্পীদের পর্যটন কার্যক্রমে যুক্ত করা গেলে একদিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের চর্চা বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের আয়ের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সম্মতি, মর্যাদা ও ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

নীতিমালা প্রণয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবস্থাপনায় বন, পরিবেশ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বনসংলগ্ন জনপদে পর্যটন উন্নয়ন এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের বিষয়গুলো স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রস্তাবনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করা এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে পর্যটন খাতের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার জন্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথও তৈরি করা প্রয়োজন।

গবেষণা থেকে পর্যটন উদ্যোগ

সুন্দরবন নিয়ে ২০১৫ সালে গবেষণার কাজে যুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বননির্ভর মানুষের দারিদ্র্য, ঋণ, লবণাক্ততা, দুর্যোগ ও কর্মসংস্থানের সংকট তাঁকে বিকল্প আয়ের পথ তৈরির বিষয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

প্রাথমিকভাবে সেলাই মেশিন বিতরণ ও কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণের মতো উদ্যোগের কথা ভাবলেও পরে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট পর্যটন কার্যক্রম গড়ে তোলার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোলকানন, ইরাবতী ইকো রিসোর্ট ও রিসার্চ সেন্টার, পিয়ালী ইকো রিসোর্ট কালচারাল সেন্টারসহ কয়েকটি উদ্যোগের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া বনলতা, বনবিবি, সুন্দরী ও জঙ্গলবাড়ির মতো পর্যটন উদ্যোগও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় পর্যটন অর্থনীতি বিস্তারের আলোচনায় এসেছে।

তবে এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরিবেশগত মানদণ্ড, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণের ওপর।

টেকসই পর্যটনে গুরুত্ব পাচ্ছে মানুষ ও প্রকৃতি

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু পর্যটকের সংখ্যা বা ব্যবসায়িক আয় বিবেচনা না করে বন, নদী, বন্যপ্রাণী, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সম্মিলিত স্বার্থ বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কঠোর পরিবেশগত সুরক্ষা বজায় রাখা এবং বনসংলগ্ন জনপদে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।

এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত নীতিমালা, পরিবেশগত ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছ অনুমোদনব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অংশীদারত্ব।

সুন্দরবনকে টেকসইভাবে রক্ষা করতে হলে তাই শুধু বন সংরক্ষণ নয়, বনসংলগ্ন মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581