ন্যাশনাল ডেস্ক:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে তিনি দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল আর উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের হৃদয়ে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বানও এ উৎসবের অন্যতম শিক্ষা।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সঙ্গে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গভীরভাবে মিশে আছে। এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় আবহমানকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে, যা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়; এর সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ উৎসব সমাজের সব স্তরের মানুষকে সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নেও সরকার সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীন, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রেখে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের পথে পরিচালিত করে। তাই প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা উচিত। ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপতি শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি কামনা করেন, সত্য ও সুন্দরের আলোয় শারদীয় দুর্গোৎসব সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে।
বাণীর শেষে রাষ্ট্রপতি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

