স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, অসহায় মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন খুলনা সদর থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান খান আপন। সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এবার খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে হাফিজ হুমায়ূন পরিষদ থেকে পরিচালক পদে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
জিয়াউর রহমান খান আপনের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা দেয়ালঘড়ি এখনো ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন ছোট দোকান ও চায়ের দোকানে টানানো রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পরও ঘড়িগুলো ব্যবহার হতে দেখা যাওয়ায় তাঁর সেই উদ্যোগের স্মৃতি এখনো ধরে রেখেছেন অনেক দোকানি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে দেয়ালঘড়ি বিতরণ, দুস্থ ও অসহায় মানুষকে আর্থিক সহযোগিতা, অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আয়াতুল কুরসি সংবলিত দেয়াল ঘড়ি প্রদান, পবিত্র রমজান মাসে মসজিদগুলোতে সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি সংবলিত বড় তোহফা বিতরণ, রিকশা ও ইজিবাইকচালকদের মধ্যে দলীয় চাবির রিং বিতরণ, এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মশারি বিতরণ করেছেন তিনি। করোনাকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান খান আপন বলেন, “মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। ছোট একটি উদ্যোগও অনেক সময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উপকার বয়ে আনতে পারে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে দেয়ালঘড়ি বিতরণ ছিল তেমনই একটি উদ্যোগ। এখনো বিভিন্ন দোকানে ঘড়িগুলো টানানো থাকতে দেখলে ভালো লাগে।”
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতি বছর একজন নারী ও একজন পুরুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন জিয়াউর রহমান খান আপন। তবে যাকাত প্রদানকে ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করায় এ ধরনের সহযোগিতার প্রচার করেন না তিনি।
জানাগেছে, সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চান জিয়াউর রহমান খান আপন। আসন্ন খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে হাফিজ হুমায়ূন পরিষদ থেকে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
নির্বাচিত হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল কমার্স এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রচলিত মানদণ্ড সম্পর্কে সচেতন করতে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক জ্ঞান বৃদ্ধি, ঋণ ও অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তি এবং নতুন বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চান।
তাঁর মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশে টিকে থাকতে উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, আধুনিক বিপণনব্যবস্থা এবং বাজার সম্পর্কে যথাযথ ধারণা থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে খুলনা চেম্বার ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রাপ্তি ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ী সমাজের প্রয়োজন ও সমস্যা নিয়েও কাজ করতে চান জিয়াউর রহমান খান আপন। সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং নারী ও তরুণদের ব্যবসায়িক সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখাই তাঁর প্রত্যাশা।

