খুলনা প্রতিনিধি
শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষ করে তুলতে পাঠদান পদ্ধতিকে আরও আনন্দদায়ক, অংশগ্রহণমূলক ও বাস্তবমুখী করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে কথা বলা, প্রশ্ন করা এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ দিতে হবে। পাঠদান কার্যকর করতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার প্রয়োজন হলেও কোনো প্রযুক্তিই একজন যত্নশীল ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বেল্টা-কেইউ-টিএইচটি ২০তম শিক্ষক উন্নয়ন সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘কাল্টিভেটিং কমিউনিটি ইন ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিন, বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেল্টা) এবং টিচার্স হেল্পিং টিচার্সের (টিএইচটি) যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি লেকচার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, বর্তমান সরকার পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ভাষাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদেরও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের দক্ষতা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দেশের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ, ডিজিটাল শিক্ষার উপকরণ এবং পরিবর্তনশীল আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ভাষা শেখার প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান বিশ্বে ইংরেজি শুধু একটি একাডেমিক বিষয় বা বিদেশি ভাষা নয়; বরং বৈশ্বিক যোগাযোগ, গবেষণা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
তিনি বলেন, তরুণদের বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। এ জন্য প্রচলিত শিক্ষণপদ্ধতিতে পরিকল্পিত পরিবর্তন আনতে হবে এবং শ্রেণিকক্ষে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন। শিক্ষকদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, ভাষা শিক্ষা শুধু শব্দ শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে স্মৃতি, ঐতিহ্য, পরিচয় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ তৈরির বিষয়ও জড়িত। শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যথাযথ প্রস্তুতি, ধৈর্য ও কার্যকর শিক্ষণপদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ভাষা শিক্ষায় নতুন সুযোগ তৈরির পাশাপাশি নানা চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষাদান পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করতে হবে।
সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন টিচার্স হেল্পিং টিচার্সের (টিএইচটি) টিম লিডার ও জাপানের আকিতা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. প্যাট্রিক ডোহার্টি এবং বেল্টার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ইংরেজি বিভাগের প্রধান তাকাদ আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. শাহজাহান কবীর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ভাষা শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাপানের আকিতা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. প্যাট্রিক ডোহার্টি, মিয়াজাকি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অ্যান ম্যাকলেলান হাওয়ার্ড, তোহোকু ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সিসিলিয়া সিলভা, রিৎসুমেইকান ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ক্রিস্টোফার জনসন এবং শোকেই ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জশ নরম্যান অংশ নেন।
সেশনগুলোতে ভাষা শিক্ষার শ্রেণিকক্ষে লেখালেখির সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা, শব্দভান্ডার শেখানো এবং খেলার মাধ্যমে স্মরণ ও শেখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের প্রভাষক তুশমিত মেহেরুবা আঁকা। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষকেরা অংশ নেন।

