ন্যাশনাল ডেস্ক:
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এরপর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অপর দুজন হলেন সালমা আক্তার (৩০) ও বুলবুল ইসলাম (৪৫)। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন দগ্ধ ও আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। অপর চারজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কারখানার লাইনম্যান লিটন মিয়া বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনার পরপরই কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কয়েকজন হতাহত হন। এ সময় পাশের সড়কে থাকা একজন রিকশাচালকসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেমায়েত বলেন, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। কারখানার সীমানাপ্রাচীরের এক কোণে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েন। আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও যানজট ছিল। এতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অগ্নিকাণ্ডে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারখানার ভেতরে প্রচণ্ড আগুন এবং সড়কে যানজট থাকায় উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে প্রবেশে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কারখানায় উচ্চ দাহ্য ক্ষমতাসম্পন্ন কাপড় ও রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত আগুনের তীব্রতা কমলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন। উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ অব্যাহত ছিল।

