রাজনীতি ডেস্ক:
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচারের দাবিতে নীলফামারীতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বড় বাজারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রশ্ন তোলেন, শহীদ ওসমান হাদিকে কেন হত্যা করা হলো? তিনি বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে স্বাধীনতার কথা বলা হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় দিল্লির প্রভাব রয়েছে এমন ধারণা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন শহীদ ওসমান হাদি। তাঁর ভাষ্য, সেই আধিপত্য থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।
জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর অনেকেই মনে করেছেন, কথা বলার মতো আর কেউ নেই। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা ব্যক্তিদের গণমাধ্যমে চরিত্রহনন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল না হলে অনেক ক্ষেত্রে বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো নাগরিক অন্যায়ভাবে নির্যাতন বা হত্যার শিকার হলে রাষ্ট্রকেই তাঁর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার পেতে যেন কাউকে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়, এমন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে জাবের বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জনজীবনের সংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকার অন্য প্রসঙ্গ সামনে এনে তালবাহানা করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, জুলাই সনদ কি শুধু শেখ হাসিনাকে বিদায় করে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় আনার জন্য, নাকি বাংলাদেশকে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল? গণভোটের রায় উপেক্ষা এবং শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।
আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থানের কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত পরিবর্তনকে অবজ্ঞা না করার আহ্বান জানান তিনি।
নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাবের বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষা করা হলে তারা সরকারের পাশে থাকবে। অন্যদিকে, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও জুলুমের মাধ্যমে মানুষের অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে জনগণ দাঁড়াবে।
সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দাবিগুলো হলো—শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার।
তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম জুমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

