মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সভাকক্ষে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিএফজি কো-অর্ডিনেটর ও পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতা ফারুক হোসেন সামাদ। সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা রুহুল আমিন ফকির।
সভাপতির বক্তব্যে ফারুক হোসেন সামাদ বলেন, সংঘাত পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও ভিন্নমতের প্রতি সম্মান দেখানোর মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক কোনো বিরোধ যাতে সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা দেখা দিলে তা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এম. কে. আজিজ, মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোহেল রায়হান, ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ খান, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা, ইমাম মনিরুজ্জামান হাওলাদার, পুরোহিত গোবিন্দ কুমার চক্রবর্তী, সাংবাদিক সেফালি আক্তার রাখি ও কলি আক্তারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা পর্বে বক্তারা মোরেলগঞ্জে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধে দল-মত-নির্বিশেষে জনগণকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহনশীলতা ও নিয়মিত সংলাপের বিকল্প নেই। কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা সংঘাতে রূপ নেওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় নিয়মিত শান্তিবিষয়ক কার্যক্রম, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পিএফজির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. রেজবিউল কবির।

