বাগেরহাট প্রতিনিধি:
মোংলা উপজেলার চিলা বাজার এলাকায় বিকাশ ও নগদের দুই ব্যবসায়ীর ব্যবসায়িক সিম ক্লোন করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১১টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম ও আত্মসাৎ করা ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ জামিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৭ জুন ভোরে চিলা বাজারের বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ী সেলিম শেখ এবং বিপ্লব মণ্ডলের তিনটি ব্যবসায়িক সিম ক্লোনকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তোলন করে চক্রটি। পরবর্তীতে সিমগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ছয়টি পৃথক বিকাশ ও নগদ নম্বরে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১ জুলাই মোংলা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোংলার মামার ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াছিন সওদাগর (২১) ও মো. শামীম শেখ (২৭)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শামীমের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে আত্মসাৎকৃত ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর ও ফকিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া র্যাবের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরও পাঁচ সদস্যকে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিরা হলেন—রাশেদ মোড়ল (২০), এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), ফেরদাউস (২১), আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), মেহেদী হাসান (২৯), মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং মো. মামুন গাজী (২১)। আসামিরা বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী ও মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আসামিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যান্ডের ৯টি আধুনিক স্মার্টফোন, ২টি বাটন ফোন এবং ২০টি সিম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ডিভাইস ও সিম পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার জানান, প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

