স্টাফ রিপোর্টার:
২০১৩ সালের ডিসেম্বর। রাজনৈতিক অস্থিরতার সেই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা শেখ মনজুরুল হক রাহাদকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় আটক করতে তৎপর হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ওই সময় তাঁকে গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা, তাঁর পরিবারের ওপর নির্যাতন এবং ক্রসফায়ারের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছেন তাঁর অনুসারীরা।
বর্ণনা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই রাহাদ পুলিশের টার্গেটে পরিণত হন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে এক সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে রাহাদকে না পেয়ে তাঁর মা, বাবা, চাচা ও চাচিকে মারধর করা হয়। তাঁর মায়ের ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে রাহাদের অবস্থান জানতে চাওয়া হয় এবং তাঁকে খুঁজে পেলে গুলি করে হত্যার নির্দেশ রয়েছে বলে পুলিশ সদস্যরা হুমকি দিয়েছিলেন এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্র, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।
পরিবারের ওপর এমন নির্যাতনের পরও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অসুস্থ মাকে দেখতে যেতে পারছিলেন না রাহাদ। বর্ণনা অনুযায়ী, এক রাতে গোপনে বাড়িতে ফিরে তিনি মাকে আকাশের নিচে মশারি টাঙিয়ে শুয়ে থাকতে দেখেন। বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুরের কারণে স্বাভাবিকভাবে থাকার পরিবেশও ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মায়ের কাছে গিয়ে রাহাদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জামায়াতের রাজনীতি করার কারণে তাঁর ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে এবং এ জন্য মা তাঁর ওপর রাগ করেছেন কি না। জবাবে তাঁর মা বলেন, নির্যাতনের সময় তিনি শারীরিক কষ্ট পেয়েছিলেন; কিন্তু ছেলে কোনো অপরাধ না করে শুধু ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে—এ কথা জানার পর তাঁর আর কোনো রাগ বা অভিমান নেই। বরং ছেলের জন্য দোয়া করেন এবং ইসলামী আন্দোলনে আরও বড় দায়িত্ব পালনের আশীর্বাদ দেন।
রাহাদের রাজনৈতিক অনুসারীদের বর্ণনায়, মায়ের এই দোয়া ও সাহস তাঁকে কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি জুগিয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ কারাবন্দি হন। কারাগার থেকে মুক্তির পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাগেরহাট-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে তাঁর অনুসারীদের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ২০১৩ সালের অভিযানে পুরস্কার ঘোষণা, ক্রসফায়ারের নির্দেশ, পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন এবং ভাঙচুরের অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বা প্রশাসনের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও সমসাময়িক নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

