বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের সঙ্গে পিরোজপুর ও বরিশালের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবারও চালু হচ্ছে সন্যাসী-কলারণ ফেরিঘাট। এ লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পল্লীমঙ্গল থেকে সন্যাসী পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক ও ফেরিঘাটের বেইলি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ফেরিঘাটটি চালু হলে বলেশ্বর নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত মোরেলগঞ্জের সন্যাসী ও পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার কলারণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সড়ক ও ফেরিঘাটের বেইলি সেতু নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলিম। এ সময় বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাহাদাৎ হোসাইন, জামায়াত নেতা অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ঠিকাদার এস এম বদিউজ্জামান খোকনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর সড়ক ও ফেরিঘাটের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রকিবুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, পল্লীমঙ্গল থেকে সন্যাসী পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন করে সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও ফেরিঘাট চালু হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
সন্যাসী বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ফেরি চালু হলে পিরোজপুর, বরিশাল ও নাজিরপুরের সঙ্গে বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ এবং মোংলার যোগাযোগ সহজ হবে। এতে এসব এলাকার মধ্যে দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণেও ফেরিঘাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সড়ক ও ফেরিঘাটের সব কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন ও ফেরি চালু হলে বাগেরহাটের সঙ্গে বরিশালসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলিম বলেন, ২০০৭ সাল পর্যন্ত এ পথে ফেরি চলাচল করত। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় ফেরিটি ডুবে যাওয়ার পর আর তা চালু করা হয়নি। একই সঙ্গে সড়কটিরও দীর্ঘদিন কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। বর্তমানে সড়ক ও ফেরিঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ফেরি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও জানান তিনি।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোরেলগঞ্জের পল্লীমঙ্গল থেকে সন্যাসী পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং ফেরিঘাটের বেইলি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বলেশ্বর নদী পারাপারে মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

