মোংলা প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় মোংলা সমুদ্রবন্দর ও সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত সোমবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। এতে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মোংলা বন্দরের হারবার বিভাগ ও আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাত থেকে বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরও উত্তাল রয়েছে।
মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন আর রশিদ জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত নাগাদ ভারতের ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
তিনি জানান, নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে তা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে এবং দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ জানিয়েছে, বন্দরের চ্যানেলের হারবাড়িয়া, বহির্নোঙর ও জেটিতে সার, ক্লিংকার ও যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এসব জাহাজে নিয়মিত পণ্য খালাসের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে উত্তাল সাগরের কারণে গভীর সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার ট্রলারসহ শত শত মাঝিমাল্লা সুন্দরবনসংলগ্ন দুবলার চর এলাকার বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মোংলা বন্দরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত আরও এক-দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। পর্যায়ক্রমে তা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে আবার তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে বর্তমান ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে মোংলা ও সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার স্বাভাবিক জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

