রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের রামপালে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে রান্নার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপি গ্যাস) এর দাম সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কয়েক দিন আগেও ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে এর চেয়েও বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হঠাৎ করে দাম বাড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা। একই সঙ্গে চায়ের দোকান, হোটেলসহ গ্যাসনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বাড়তি দামের কারণে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।
রামপাল উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এলপি গ্যাসের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, দোকানভেদে গ্যাসের দামে পার্থক্য রয়েছে। অনেক দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকাও টাঙানো নেই।
রামপালের গৃহিণী শিউলি বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করে গ্যাসের দাম এত বাড়ল কেন, কেউ কিছু বলতে পারে না। দোকানদাররা বলেন, কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু সরকারি কোনো ঘোষণা তো শুনিনি। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। চায়ের দোকানি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা গ্যাস ছাড়া চলে না। তিন দিনে ৩০০ টাকা দাম বাড়লে লাভ তো দূরের কথা, দোকান চালানোই কঠিন হয়ে যায়।’
হোটেল ব্যবসায়ী উজ্জল গাজী বলেন, ‘এভাবে হঠাৎ দাম বাড়া আগে দেখিনি। অনেক দোকানে দামের কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। সরকারি মনিটরিংও চোখে পড়ে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা ব্যবসায়ীরা।’
এলপি গ্যাস বিক্রেতাদের দাবি, দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদেরও করার কিছু নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ডিলার বলেন, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ পর্যায়ের বিভিন্ন খরচের কথা উল্লেখ করে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তাদের লিখিত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, এলপি গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কেউ গ্যাস বিক্রি করলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বাজারে দোকানভেদে ভিন্ন দামে এলপি গ্যাস বিক্রি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সচেতন মহলের মতে, এলপি গ্যাসের বাজারে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা, বিক্রয়কেন্দ্রে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা টাঙানো এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে ভোক্তাদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখাও সম্ভব হবে।

