রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির ● লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়িমার্চ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ● বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো, মুক্তিপণের জন্য হত্যা রাকিবকে
বাগেরহাট

মোরেলগঞ্জে জিপিএফের প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ, ৬ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় ওই কার্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা চার সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয় এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশ জারি করে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ অনুযায়ী, ছয়জনের বিরুদ্ধে মোট ৯ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত চার সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হলেন মীর এনামুল হক, সৌমেন সরকার, মদন কুমার দাস ও হাসানুজ্জামান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, মোরেলগঞ্জে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মীর এনামুল হকের বিরুদ্ধে জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় তিনি রামপাল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সৌমেন সরকারের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে জিপিএফের ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মদন কুমার দাসের বিরুদ্ধে জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি বাগেরহাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার হিসেবে কর্মরত।

হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয়ে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত।

এ ছাড়া দুই অডিটরের বিরুদ্ধে জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে শ্যামল কুমার দাসের বিরুদ্ধে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৫টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় তিনি বাগেরহাটের মোংলায় কর্মরত ছিলেন।

অপর অডিটর রুবেল মোল্লার বিরুদ্ধে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২৩ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় তিনি বাগেরহাটের শরণখোলায় কর্মরত ছিলেন।

যেভাবে সামনে আসে গরমিল

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের জিপিএফ হিসাবের সঠিকতা যাচাই করতে খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্তে ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জিপিএফের অর্থে অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মোরেলগঞ্জের কয়েকজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিপিএফ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে তাঁদের হিসাবের সঙ্গে গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি নজরে আসার পর মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী জিপিএফ হিসাবের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয়ে চিঠি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই যাচাই কমিটি গঠন করা হয়।

অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষক জানান, জিপিএফের অর্থের কথিত এসব লেনদেন সম্পর্কে তাঁরা আগে কিছুই জানতেন না। ঋণ উত্তোলনের সময় হিসাব যাচাই করতে গিয়ে তাঁরা গরমিল দেখতে পান। কোনো কোনো শিক্ষকের হিসাবে একই দিনে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

বরখাস্ত অবস্থায় খোরাকি ভাতা

সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, বরখাস্ত থাকাকালে অভিযুক্তরা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাঁরা কেউ কর্মস্থলের স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন না। তদন্তের প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ যখনই তাঁদের উপস্থিত হতে বলবে, তখন তাঁদের উপস্থিত থাকতে হবে।

জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা ডিডিসিএ তামান্না ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581